Food and Fashion

তেলের দুনিয়ায় জুড়ি নেই ক্যাস্টর অয়েলের। জানেন কি এর উপকারিতা ঠিক কীরকম?

একটা সময় ছিল যখন প্রত্যেক বাঙালি (Bengali) বাড়িতে ছিল ক্যাস্টর অয়েল (castor oil) ব্যবহারের রেওয়াজ। এই তেলে যেহেতু নতুন চুল (hair) গজায় তাই অনেক মহিলাই এই তেল ব্যবহার করতেন। এখনও যে ব্যবহার হয় না তা বলছিনা। আসলে এই তেলের গুণাবলীর তালিকা এতটাই দীর্ঘ, যে সবটা বলতে গেলে রীতিমতো একটা উপন্যাস লেখা হয়ে যাবে। হাজার হাজার বছর ধরে এই সর্বগুণসম্পন্ন ভেজিটেবিল তেলের ব্যবহার চলে আসছে সারা বিশ্বে।Ricinus communis বলে একটি গাছের বীজ থেকে এই তেল নিঃসরণ করা হয়। এই বীজগুলোকে (seeds) বলা হয় ক্যাস্টর বিনস। এই বীজগুলোতে রয়েছে এক বিষাক্ত এনজাইম যার নাম ricin। কিন্তু যখন ক্যাস্টরের বীজ উতপ্ত করা হয় তখন এই বিষাক্ত এনজাইম (enzyme) নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নির্ভয়ে এই তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যাস্টর অয়েল মূলত ব্যবহার হয় ওষুধ নির্মাণে, শিল্পে এবং প্রসাধনী তৈরির ক্ষেত্রে। প্রাচীন (historic) ইজিপ্টে (Egypt) ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার হত প্রদীপ (lamp) জ্বালাতে। তাছাড়াও ইজিপ্টের মানুষ এই তেল চোখে (eye) চুলকানি (irritation) কমাতে এবং গর্ভবতী (pregnant) মহিলাদের প্রসব যন্ত্রণা কমাতে এই তেল ব্যবহার করত।তবে ভারত এবং আফ্রিকাতেও এই তেল পাওয়া যায়। বাংলাতে একেই বলা হয় রেড়ির তেল।

এখনও এই তেল কোষ্ঠকাঠিন্য (constipation) ও ত্বকের (pores and skin) নানা সমস্যা (drawback) সারাতে এবং নানা রকম প্রসাধনী নির্মাণে এই তেল ব্যবহার হয়। আসুন দেখে নিয় ক্যাস্টর অয়েলের উপকারিতা (advantages) ঠিক কীরকম।

ল্যাক্সেটিভ হিসেবে (laxative)

constipation

যাদের দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য (constipation) আছে তাদের জন্য ক্যাস্টর অয়েল খুব ভালো কাজ দিতে পারে। বয়স্ক (aged) মানুষদের জন্য বিশেষ করে এটি একটি প্রাকৃতিক (pure) ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। তবে ক্যাস্টর অয়েল সব সময় অল্প মাত্রায় গ্রহণ করবেন। বেশি মাত্রায় ক্যাস্টর অয়েল মাথা ঘোরা (dizziness), পেট ব্যাথা (abdomen ache), গা বমিবমি (nausea) ভাব এবং ডাইরিয়া  হতে পারে। তাই কত মাত্রায় ক্যাস্টর অয়েল নেবেন সেটা জানা না থাকলে চিকিৎসকের (physician) পরামর্শ (recommendation) নিয়ে নেবেন।যেহেতু ক্যাস্টর অয়েল স্বাদে একটুও ভালো নয় তাই অনেকেরই এটা সহ্য নাও হতে পারে। আমরা আপনাদের বলে দিচ্ছি কয়েকটি সহজ উপায়। দুধ বা কমলালেবুর রসের সঙ্গে এই তেল মিশিয়ে পান করুন। এতে আপনার পেট পরিষ্কার হবে যার প্রভাব পড়বে আপনার ত্বকে। এই তেল শুধু পেট পরিষ্কারই করে না, ব্যাকটিরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ইমিউনিটিও বাড়ায়।  

ক্যাস্টর অয়েল ডিটক্সিফিকেশান প্যাক (castor oil cleansing pack)

পেটের উপর ভালো করে ক্যাস্টর অয়েল মাসাজ করুন। এবার একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পেট ঢেকে দিন। কাপড়ের উপরে একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পেট মুড়ে দিন। এর উপরে একটি গরম জলের বোতল রাখুন। বোতলটি ৪৫ মিনিট মতো রাখবেন। তবে একঘণ্টার বেশি একদম রাখবেন না। এটি করলে আপনার গ্যাস, অম্বল, বমি বমি ভাব ও ব্লটিং অনেকটাই উপশম হবে।

স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক (pure) ময়েশ্চারাইজার (moisturizer) হিসেবে

shiny hair

ক্যাস্টর অয়েলে আছে ricinoleic অ্যাসিড এবং মোনোস্যাচুরেটেড (monosaturated) ফ্যাটি (fatty) অ্যাসিড (acid)। এই দুটো পদার্থই ত্বকের আর্দ্রতা (moisture) ধরে রাখতে সক্ষম। আমাদের ত্বকের উপরিভাগে যদি জল (water) বেরিয়ে যায় বা আর্দ্রতা শূন্য হয়ে যায় তখন ক্যাস্টর অয়েল (castor oil) খুব কাজ দেয়।অনেক প্রসাধনী যেমন লোশন (lotion), মেকআপ প্রডাক্টস (make up merchandise) এবং ক্লেনজারে (cleanser) এটা মেশানো হয়। অনেক সময় অনেক ক্ষতিকর প্রসাধনী (dangerous make-up) আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা পুরো শুষে নয়। সেইসব প্রসাধনী ব্যবহার না করে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সরাসরি ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করা যায়।এই তেল খুব ভারী (heavy) তাই অন্য যে কোনও ত্বকের উপযোগী তেলের সঙ্গে যেমন ধরুন আমন্ড (almond), অলিভ (olive), নারকেল (coconut) (allergy) তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাখতে পারেন।মাথায় রাখবেন, ক্যাস্টর অয়েলে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। তাই সারা অঙ্গে লাগানোর আগে একবার হাতে লাগিয়ে প্যাচ (patch check) টেস্ট করে নেবেন। প্রতিদিন রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ঘষে মুখে লাগান। দেখবেন ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকছে।

ক্ষত (wound therapeutic) সারাতে কাজে লাগে

বেশিরভাগ ক্ষত সারানোর মলম (ointment) বা লোশনে (lotion) থাকে ক্যাস্টর অয়েল (castor oil)। কারণ এই তেলে ক্ষত সারানোর ক্ষমতা আছে। আসলে এই তেলে আছে নতুন পেশি (new tissues) গঠনের ক্ষমতা। তাই কোথাও কেটে বা পুড়ে গেলে এই তেল অল্প করে ব্যবহার করা যেতে পারে।তাছাড়া এই তেলে যে ricinoleic অ্যাসিড আছে যা ক্যাস্টর অয়েলের মূল ফ্যাটি অ্যাসিড (fatty acid) উপাদান সেটা ত্বকের জ্বালা এবং ব্যথা (ache) সারাতেও কাজ দেয়। যাদের হাত পা ফোলার (swelling) সমস্যা আছে বা গাঁটে (gout) ব্যাথা হয় তারা এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যাকনে (pimples) কমাতে সাহায্য করে

অ্যাকনে (pimples) হচ্ছে এমন একটি ত্বকের সমস্যা যা থেকে হতে পারে ব্ল্যাকহেডস (black heads), ব্রণ (pimple) এবং মুখের মধ্যে ফোলা ফোলা দানা। যেহেতু ক্যাস্টর অয়েলে অ্যাণ্টি ইনফ্ল্যামেটারি এবং অ্যাণ্টি (anti bacterial)  ব্যাকটিরিয়াল উপাদান আছে তাই অ্যাকনের লক্ষণ কমাতে এটি খুব উপকারী। অ্যাকনে কম করার জন্য এই তেল ব্যবহার করা যায়। এতে যেহেতু আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা আছে, সুতরাং অ্যাকনে কমানোর সাথে সাথে এটি ত্বকে আর্দ্রতাও বজায় রাখতে সক্ষম। অ্যাকনে থেকে যে জ্বালা হয় তার জন্য কটন বা তুলোর বলে অল্প একটু ক্যাস্টর অয়েল লাগিয়ে ব্রণ বা অ্যাকনেতে লাগান। যদি কোথাও সান বার্ন হয়ে থাকে সেখানেও ব্যবহার করতে পারেন এই তেল। ঘণ্টা খানেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। অনেক আরাম পাবেন।ক্যাস্টর অয়েল দিয়ে অ্যাকনে দূর করার একটি পদ্ধতি আমরা আপনাকে বলে দিচ্ছি। এটি অতি সহজ একটি উপায়। বেশি সময়ও লাগবে না এবং আপনার উদ্দেশ্যও সিদ্ধ হবে। রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে হাল্কা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। গরম জল দিয়ে মুখ ধুলে আপনার মুখের বা ত্বকের ছিদ্রগুলো সব খুলে যাবে। এবার সার্কুলার বা চক্রাকার মোশনে এই তেল অল্প মাত্রায় মুখে মাসাজ করুন। বেশি চাপ দেবেন না। হাল্কা করে মাসাজ করবেন। সারা রাত এই তেল মুখে রেখে দিন যাতে এই তেল আপনার ত্বকের গভীরে প্রবেশ করার সময় পায়। সকালে উঠে ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই তেল ত্বকের এতটাই গভীরে গিয়ে কাজ করে যে অ্যাকনে হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। দ্বিতীয়ত এই তেলে উপস্থিত অ্যাসিড জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।  

ছত্রাক (fungus) প্রতিরোধ করে

এক ধরণের ছত্রাক (fungus) আছে যা আমাদের মুখের বিশেষত দাঁতের (tooth) ক্ষেত্রে খুব ক্ষতিকর। এই ছত্রাক মাড়ির (gum) সংক্রমণ ও রুট ক্যানালে (root canal) সংক্রমণ ঘটায়। ক্যাস্টর অয়েল এই ছত্রাক প্রতিরোধ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে বয়স্ক মানুষদের যে ধরণের দাঁতের সমস্যা হয় সেগুলি দূর করতে খুব কাজে দেয় ক্যাস্টর অয়েল (castor oil)।

চুল ও স্ক্যাল্পের যত্নে (for hair and scalp care)

good hair %282%29

যারা চুলের সমস্যায় নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন তাদের জানিয়ে রাখি ক্যাস্টর অয়েল (castor oil) কিন্তু একটি প্রাকৃতিক কনডিশনার (pure conditioner)।আপনি এই মুহূর্তে যে লিভ-ইন কনডিশনার ব্যবহার করছেন সেটার মধ্যে এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে নিন। এবার এই বোতলটা ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই তেল মেশানো কনডিশনার ব্যবহার করুন আর তফাৎ দেখুন। চুলে ক্যাস্টর অয়েল মাসাজ করলে চুলের ডগা ফাটে কম। ক্ষতিগ্রস্ত (broken) এবং রুক্ষ (dry) চুলে (hair) ক্যাস্টর অয়েল মাসাজ করলে চুলে আর্দ্রতা আসে ফলে চুল অনেক নরম এবং উজ্জ্বল হয়। তাছাড়াও আমাদের স্ক্যাল্পে মৃত কোষ (lifeless cell) থেকে হয় ড্যানড্রাফ (dandruff) বা খুশকি। ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পে (scalp) মাসাজ (therapeutic massage) করলে খুশকি দূর হয়।

মনে আছে ছোটবেলায় দেখেছি, যাদের মাথায় বা ভুরুতে (eyebrow) চুল কম সেখানে মা দিদিমারা ক্যাস্টর অয়েল লাগিয়ে দিচ্ছেন। কারণ এটা বহু বছর ধরেই প্রমাণিত যে ক্যাস্টর অয়েল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই তেল মাথায় মাসাজ করা হলে হেয়ার ফলিকলে রক্ত চলাচল বাড়ে। তাছাড়াও এতে আছে ওমেগা নাইন (omega 9 fatty acid) ফ্যাটি অ্যাসিড। যা চুলের পুষ্টি সরবরাহ করে।

ক্যাস্টর অয়েল হেয়ার মাস্ক (castor oil hair masks)

অ্যালোভেরা ও ক্যাস্টর অয়েল মাস্ক (aloe vera and castor oil  masks)

সম পরিমাণে অ্যালোভেরা (aloe vera) জেল  ও ক্যাস্টর অয়েল (castor oil) মিশিয়ে নিন। ভালো করে এটা দিয়ে মাসাজ (therapeutic massage) করুন। তারপর একটি হট টাওয়েল জড়িয়ে নিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে দিন। বিশেষ অসুবিধে না থাকলে এই প্যাক সারা রাতও মাথায় রেখে দিতে পারেন। এবার ৪৫ মিনিট পর শ্যাম্পু (shampoo) করে নিন।

মেথি, নারকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েলের মিশ্রণ (fenugreek, coconut oil and castor oil combination)

একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল (coconut oil) , ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল ও সামান্য মেথি নিয়ে সেটা ফোটান। মেথি থেকে তেল বেরনো শুরু হলে আঁচ বন্ধ করে পাত্র নামিয়ে নিন। এই তেল ঠাণ্ডা করে একটা পাত্রে রেখে দিন। মাঝে মাঝে এই তেল দিয়ে মাসাজ করতে পারেন।নারকেল তেলের পরিবর্তে সর্ষের তেল, আমন্ড তেল বা  অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। ক্যাস্টর অয়েলের সাথে গ্লিসারিন মিশিয়েও মিশ্রণ তৈরি করা যায়। ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল নিলে তাতে ৪ ফোঁটা গ্লিসারিন মেশাবেন। এইভাবেই অনুপাত করে নেবেন।ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে শুধু জল মিশিয়েও মাখা যায়। আগেই বলেছি এই তেল ভারী হয়। তাই জল মিশিয়ে এটাকে একটু পাতলা করা যায়।

সপ্তাহে একদিন দুই টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে তার মধ্যে দুটো ডিম ফেটিয়ে দিন। আর যোগ করুন এক টেবিল চামচ মধু। এই প্যাক তৈরি করে মাথায় লাগান। মাথায় শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জেল্লা ফিরিয়ে আনতে খুব ভালো কাজ দেয় এই প্যাক।

অকালপক্বতা রোধ করে

grey hair

একদিন সকালে উঠে আয়নায় সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ যদি আবিষ্কার করেন আপনার চুলের মাঝে উঁকি দিচ্ছে রুপোলী রেখা, আঁতকে উঠবেন না। বরং চট জলদি মাথায় ক্যাস্টর অয়েল মাসাজ করা শুরু করে দিন। আরে বাপু, বাকি চুলগুলোকে বাঁচাতে হবে তো নাকি? আসলে ক্যাস্টর অয়েলে আছে এমন কিছু উপাদান যা চুলের পিগমেন্টকে (pigment) দীর্ঘদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম।

বয়স ধরে রাখতে(anti ageing)

এই তেলে আছে অ্যাণ্টি এজিং প্রপার্টি (anti getting older property)। ক্যাস্টর অয়েল (castor oil) যখন ত্বকের (pores and skin) গভীরে (deep) প্রবেশ করে তখন সেটা কোলাজেন (collagen) ও ইলাস্টিনের (ilastin) উৎপাদন (manufacturing) অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। এই দুটোর উৎপাদন বেড়ে গেলে ত্বকে বলিরেখা (wrinkles) ও ফাইন লাইন (advantageous line) আসতে দেরি হয়। ত্বক অনেক বেশি সজীব (vibrant) ও তরুণ (younger) দেখায়।

 

 

 

 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

     

 

!perform(f,b,e,v,n,t,s)if(f.fbq)return;n=f.fbq=perform()n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments);if(!f._fbq)f._fbq=n;
n.push=n;n.loaded=!zero;n.model=’2.zero’;n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!zero;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];s.parentNode.insertBefore(t,s)(window,
doc,’script’,’https://connect.facebook.net/en_US/fbevents.js’);

fbq(‘init’, ‘303042173204749’);
fbq(‘monitor’, “PageView”);var appId = (“production” == ‘improvement’) ? ‘1537072703263588’ : ‘1425515514419308’;

window.fbAsyncInit = perform()
FB.init(
appId: appId,
autoLogAppEvents: true,
xfbml: true,
model: ‘v2.11’
);

// Broadcast an occasion when FB object is prepared
var fbInitEvent = new Occasion(‘FBObjectReady’);
doc.dispatchEvent(fbInitEvent);
;

(perform(d, s, id)
var js, fjs = d.getElementsByTagName(s)[0];
if (d.getElementById(id)) return;
js = d.createElement(s);
js.id = id;
js.src = “https://connect.facebook.net/en_US/sdk.js”;
fjs.parentNode.insertBefore(js, fjs);
(doc, ‘script’, ‘facebook-jssdk’));